যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের যুদ্ধ বাড়ানোর হুমকিতে এশিয়ার শেয়ারবাজারে ধস, দশকে সবচেয়ে ভয়াবহ শক্তি সংকটের হুঁশিয়ারি আন্তর্জাতিক সংস্থার
আন্তর্জাতিক ডেস্ক (বিবিসি): মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে সামরিক সংঘাত আরও বাড়ানোর হুমকিতে বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। এই উত্তেজনার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে এশিয়ার শেয়ারবাজারগুলোতে, যেখানে সূচকগুলোতে বড় ধরনের ধস দেখা গেছে। বিনিয়োগকারীরা চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা নিয়ে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করায় শেয়ারবাজারের এই পতন হয়েছে বলে বিবিসিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। বৈশ্বিক অর্থনীতির উপর প্রভাব ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে এর সুদূরপ্রসারী অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে বিশ্লেষকরা চিন্তিত। যুদ্ধের পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে গেলে তা কেবল সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতেই নয়, বরং বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে, এশিয়ার দেশগুলোর অর্থনীতি ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের প্রতি অধিক সংবেদনশীল হওয়ায় সেখানকার শেয়ারবাজারগুলো তাৎক্ষণিকভাবে এর শিকার হয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অস্থিরতা বাড়িয়েছে। শক্তি সংকটের অশনি সংকেত এই ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থা (International Energy Agency – IEA)-এর প্রধান একটি মারাত্মক সতর্কতা জারি করেছেন। বিবিসি জানায়, তিনি সতর্ক করে বলেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যেকার সংঘাত যদি আরও বৃদ্ধি পায় এবং একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দিকে মোড় নেয়, তবে বিশ্ব গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ শক্তি সংকটের মুখোমুখি হতে পারে। তেলের অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী অঞ্চল হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের যেকোনো অস্থিতিশীলতা বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যকে অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে এবং এর প্রাপ্যতাতেও বড় ধরনের সংকট তৈরি করতে পারে। আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থার প্রধানের এই সতর্কবার্তা ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের অর্থনৈতিক পরিণতি সম্পর্কে গভীর উদ্বেগ বাড়িয়েছে। শক্তি সংকটের ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দা দেখা দিতে পারে এবং এর প্রভাব সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার উপরেও পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশ্বব্যাপী সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়া এবং জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হলে অনেক দেশেই মুদ্রাস্ফীতি চরম আকার ধারণ করতে পারে। এমতাবস্থায়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উত্তেজনা কমানোর এবং শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানাচ্ছে যাতে এমন ভয়াবহ অর্থনৈতিক ও শক্তি সংকট এড়ানো যায়।
First published on furqanbarta.com · March 23, 2026 · MD Hamidur Rahman