ইরান সংঘাতে জড়িত মার্কিন বিমানের জন্য স্পেনের আকাশসীমা বন্ধ, সামরিক ঘাঁটির ব্যবহারও প্রত্যাখ্যান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক (বিবিসি): মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইরান সংশ্লিষ্ট সামরিক বিমানের জন্য নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে স্পেন। একইসঙ্গে স্পেনের ভূখণ্ডে অবস্থিত দুটি যৌথভাবে পরিচালিত সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের মার্কিন আবেদনও প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। বিবিসি জানায়, স্পেন সরকারের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, বিশেষত ইরান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে ইউরোপের মনোভাবের ভিন্নতা প্রকাশ পেয়েছে। ঘটনার প্রেক্ষাপট বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্পেনের আন্দালুসিয়া অঞ্চলে অবস্থিত এই দুটি সামরিক ঘাঁটি বহু বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র এবং স্পেনের যৌথ তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়ে আসছিল। মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য এই ঘাঁটিগুলো কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল, বিশেষত মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় বিভিন্ন সামরিক অভিযানে রসদ সরবরাহ এবং বিমান পরিচালনার ক্ষেত্রে। এতদিন যুক্তরাষ্ট্র এই ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করে আসছিল। তবে ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি স্প্যানিশ সরকার এই ঘাঁটিগুলো মার্কিন যুদ্ধবিমান বা অন্য কোনো সামরিক অভিযানের জন্য ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। স্পেনের পদক্ষেপের বিস্তারিত স্পেন কেবল সামরিক ঘাঁটির ব্যবহারই প্রত্যাখ্যান করেনি, ইরান সংঘাতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত মার্কিন বিমানগুলিকে নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতিও দেওয়া হচ্ছে না। এই পদক্ষেপের ফলে ইরান অভিমুখে বা সেখান থেকে আসা মার্কিন সামরিক বিমানগুলিকে বিকল্প রুট খুঁজতে হবে, যা তাদের অভিযানকে দীর্ঘায়িত ও জটিল করতে পারে। মাদ্রিদের এই সিদ্ধান্ত ওয়াশিংটন এবং মাদ্রিদের মধ্যেকার ঐতিহ্যবাহী প্রতিরক্ষা সম্পর্কে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন নিয়ে এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে। রাজনৈতিক ও সামরিক প্রভাব স্পেনের এই কঠোর অবস্থান এমন এক সময়ে এলো যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। মাদ্রিদের এই পদক্ষেপ একদিকে যেমন ইউরোপের দেশগুলোর ইরান নীতিতে ভিন্নতা তুলে ধরছে, তেমনই মার্কিন সামরিক বাহিনীর মধ্যপ্রাচ্য সম্পর্কিত ভবিষ্যৎ কার্যক্রমে কিছু জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। বিবিসি সূত্র মতে, এই পদক্ষেপের সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক ও সামরিক প্রভাব থাকতে পারে, যা ন্যাটো জোটের সদস্যদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি করতে পারে।
First published on furqanbarta.com · March 31, 2026 · MD Hamidur Rahman