Skip to main content
FurqanBartaTruth, trust and useful connectionCreate an account

সামাজিক মাধ্যমে আসক্তি: যুগান্তকারী রায়ে মেটা ও ইউটিউবকে দায়ী করলো আদালত, ভুক্তভোগী পেলেন ৬ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক (বিবিসি): সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসক্তি সংক্রান্ত একটি যুগান্তকারী মামলায় মেটা এবং ইউটিউবকে দায়ী করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত। এই রায়ে একজন ভুক্তভোগী নারীকে ৬ মিলিয়ন (৬০ লক্ষ) ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই ঐতিহাসিক রায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আসক্তি সংক্রান্ত শত শত অন্যান্য মামলার জন্য সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিবিসি জানিয়েছে। ঘটনার প্রেক্ষাপট বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই মামলাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নকশা এবং অ্যালগরিদম কীভাবে ব্যবহারকারীদের মধ্যে আসক্তি তৈরি করে এবং এর ফলে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, তা নিয়ে বহু বছরের উদ্বেগের ফল। ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করেছিলেন যে মেটার মালিকানাধীন প্ল্যাটফর্মগুলো (যেমন ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম) এবং ইউটিউব ব্যবহারকারীদের অতিরিক্ত সময় অনলাইনে আটকে রাখতে এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে, যা তার মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটিয়েছে। এই মামলাটি এমন এক সময়ে এলো যখন বিশ্বজুড়ে কিশোর-কিশোরী ও তরুণদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আসক্তি এবং এর মানসিক স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। আদালতের রায় ও তাৎপর্য আদালতের এই রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, যেখানে প্রথমবারের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কোম্পানিগুলোকে তাদের প্ল্যাটফর্মের আসক্তি সৃষ্টিকারী প্রকৃতির জন্য আইনত দায়ী করা হলো। বিবিসি সূত্র মতে, বিচারকরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে মেটা ও ইউটিউব তাদের প্ল্যাটফর্মের ক্ষতিকারক প্রভাব সম্পর্কে অবগত ছিল, কিন্তু তা সত্ত্বেও ব্যবহারকারীদের আসক্ত রাখার জন্য বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেছে। এই ৬ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ শুধু ওই নারীর ব্যক্তিগত ক্ষতির স্বীকৃতিই নয়, বরং ভবিষ্যতে এমন মামলার জন্য একটি মাপকাঠিও তৈরি করেছে, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কোম্পানিগুলোর জবাবদিহিতা বাড়াবে। ভবিষ্যৎ প্রভাব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আসক্তি বিষয়ক শত শত মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এই রায় ওইসব মামলার বিচার প্রক্রিয়াকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করতে পারে। আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কোম্পানিগুলোর ওপর তাদের প্ল্যাটফর্মের নকশা এবং নিরাপত্তা নীতিতে পরিবর্তন আনার জন্য চাপ সৃষ্টি হবে। এটি একটি নতুন আইনি ধারার সূচনা করতে পারে, যেখানে প্রযুক্তি সংস্থাগুলোকে তাদের পণ্যের মানবিক প্রভাবের জন্য আরও বেশি জবাবদিহি করতে হবে বলে পর্যবেক্ষকরা ধারণা করছেন। এই রায় বিশ্বব্যাপী অন্যান্য দেশগুলোতেও একই ধরনের মামলার পথ খুলে দিতে পারে।

First published on furqanbarta.com · March 26, 2026 · MD Hamidur Rahman

This post was shared with everyone. Join to react, reply and follow what happens near you.

Create an account