জেফরি এপস্টেইনের নির্যাতিত নারীরা বিবিসিকে জানালেন তাদের বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতা: ‘তিনি আমাদের চোখে ভয় দেখতে পছন্দ করতেন’
এপস্টেইন ভুক্তভোগীদের সাহসী স্বীকারোক্তি আন্তর্জাতিক ডেস্ক (বিবিসি): বিতর্কিত ধনকুবের জেফরি এপস্টেইনের যৌন নির্যাতনের শিকার পাঁচজন নারী বিবিসি নিউজনাইটের সঙ্গে একটি সাক্ষাৎকারে তাদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা ও এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব সম্পর্কে মুখ খুলেছেন। বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই নারীরা এপস্টেইনের হাতে হওয়া নির্যাতনের শিকার হয়ে যে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে গিয়েছেন, তার এক মর্মস্পর্শী বর্ণনা দিয়েছেন। এই সাক্ষাৎকারটি এপস্টেইনের অপকর্মের শিকারদের নীরবতা ভাঙার এক সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভয় ও মানসিক প্রভাব বিবিসি জানায়, এই পাঁচজন নারী তাদের সম্মিলিত ভোগান্তির কারণে সৃষ্ট মানসিক ও শারীরিক প্রভাবের কথা তুলে ধরেছেন। তাদের বর্ণনায় উঠে এসেছে, কীভাবে এপস্টেইন তাদের জীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছিল। তাদের মধ্যে একজন নারী এপস্টেইনের বিকৃত মানসিকতার এক ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে বলেন, “তিনি আমাদের চোখে ভয় দেখতে পছন্দ করতেন।” এই উক্তিটি এপস্টেইনের মানসিক অত্যাচার এবং তার শিকারদের উপর চাপানো গভীর ট্রমার ইঙ্গিত দেয়, যা তাদের মনোজগতে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত তৈরি করেছে। ভুক্তভোগী নারীরা জানিয়েছেন যে, এপস্টেইনের দ্বারা হওয়া নির্যাতন কেবল শারীরিক ছিল না, বরং তা তাদের আত্মবিশ্বাস, মানসিক স্বাস্থ্য এবং সামাজিক সম্পর্ককেও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। দীর্ঘ সময় ধরে বয়ে বেড়ানো এই বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতা তাদের জীবনে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে, যা আজও তাদের তাড়িয়ে বেড়ায়। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারা এই ট্রমা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য কঠিন সংগ্রাম করছেন এবং জনসম্মুখে তাদের অভিজ্ঞতা প্রকাশের মাধ্যমে কিছুটা হলেও শান্তি খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করছেন। সাক্ষাৎকারের গুরুত্ব বিবিসি নিউজনাইটে এই সাহসী সাক্ষাৎকার জনসমক্ষে এপস্টেইনের অপকর্মের ভয়াবহতা এবং তার শিকারদের দুর্ভোগ সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। এই নারীরা তাদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার মাধ্যমে কেবল নিজেদের কষ্টই নয়, বরং অন্যান্য ভুক্তভোগীদের জন্যেও এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন, যারা হয়তো এখনো তাদের অভিজ্ঞতা বলতে দ্বিধা করছেন। এই সাক্ষ্যপ্রদান যৌন নির্যাতনের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং এমন অপরাধের শিকারদের প্রতি সমাজের সংবেদনশীলতা বাড়াতে সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
First published on furqanbarta.com · March 25, 2026 · MD Hamidur Rahman