ফুরকান বার্তা ডেস্ক | লোহাগাড়া, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার কলাউজান ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের উত্তর কলাউজান এলাকায় পৈত্রিক ও খরিদা জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার প্রতিবাদ করায় শামসুল হক নামের এক ব্যক্তিকে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। একই ঘটনায় তার স্ত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ এবং পুরো পরিবারকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
এসব ঘটনার বিচার, জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, দ্রুত গ্রেপ্তার এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে বৃহস্পতিবার লোহাগাড়া বটতলী স্টেশনের একটি অভিজাত হোটেলের হলরুমে সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগী পরিবার।
সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন গুরুতর আহত শামসুল হকের ছোট ভাই হাবিবুর রহমান। এ সময় আহত শামসুল হকসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে উত্তর কলাউজান এলাকার বেলাল উদ্দিন, কফিল উদ্দিন ও আনিচুর রহমান গং তাদের পৈত্রিক ও খরিদা জমি থেকে জোরপূর্বক মাটি কেটে নিয়ে আসছিলেন। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হলেও অভিযুক্তরা কোনো ধরনের তোয়াক্কা না করে অবৈধভাবে মাটি কাটার কার্যক্রম চালিয়ে যান বলে দাবি পরিবারের।
ভুক্তভোগী পরিবারের ভাষ্যমতে, সম্প্রতি গভীর রাতে পুনরায় তাদের জমি থেকে মাটি কাটার সময় শামসুল হক বাধা দিলে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে তার ওপর হামলা চালায়। অভিযোগ অনুযায়ী, ধারালো দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপ মারলে তিনি মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হন। পরে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়।
পরিবারের দাবি, হামলার সময় শামসুল হকের স্ত্রীকে শ্লীলতাহানি করা হয় এবং পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখানো হয়। এ ঘটনায় শামসুল হকের পরিবার লোহাগাড়া থানায় একটি হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করে। তবে মামলা হওয়ার পরও অজ্ঞাত কারণে কয়েকজন আসামি এখনো গ্রেপ্তারের বাইরে রয়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের আরও অভিযোগ, মামলার ২ নম্বর ও ৩ নম্বর আসামি জামিনে মুক্ত হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। এতে পুরো পরিবার বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। পরিবারের সদস্যরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, যেকোনো সময় তাদের ওপর পুনরায় হামলা হতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে পরিবারের সদস্যরা বলেন,
“আমরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে আছি। মামলার পরও আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে। প্রশাসনের কাছে আমাদের একটাই দাবি—আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।”
পরিবারের সদস্যরা আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় বিচারপ্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা হতে পারে। এ কারণে তারা স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি জানান, জমিজমা ও মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। তারা দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত করা এবং নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
বিকল্প দৃষ্টিভঙ্গি
ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত বেলাল উদ্দিন, কফিল উদ্দিন ও আনিচুর রহমান গংয়ের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জমির মালিকানা ও মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল।
স্থানীয়দের একাংশের মতে, দীর্ঘদিনের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ সময়মতো সমাধান না হওয়ায় পরিস্থিতি ধীরে ধীরে সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে। তবে পুরো ঘটনার প্রকৃত সত্য নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।
Furqan Barta বিশ্লেষণ
বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় জমিজমা ও অবৈধ মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে সহিংসতা ক্রমেই উদ্বেগজনক আকার ধারণ করছে। লোহাগাড়ার এই ঘটনাও সেই বাস্তবতার আরেকটি উদাহরণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্লেষকদের মতে, ভূমি বিরোধ দীর্ঘদিন অমীমাংসিত থাকলে তা ব্যক্তিগত শত্রুতা, সামাজিক উত্তেজনা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষ করে যখন অভিযোগ ওঠে অবৈধ মাটি কাটা, ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা, শ্লীলতাহানি এবং প্রাণনাশের হুমকির মতো গুরুতর অপরাধের—তখন দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়ে।
তাদের মতে, এ ধরনের ঘটনায় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ, ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।