আন্তর্জাতিক ডেস্ক (বিবিসি):
ইরানে চলমান সংঘাতের এক মাস পেরোনোর পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘সহজাত প্রবৃত্তি’-নির্ভর নীতি কার্যকর প্রমাণিত হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন বিবিসির আন্তর্জাতিক সম্পাদক জেরেমি বোয়েন। তিনি তাঁর বিশ্লেষণে উল্লেখ করেছেন যে, ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান নীতি, যা মূলত ব্যক্তিগত অনুভূতি ও তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তের উপর নির্ভরশীল, তা কাঙ্ক্ষিত ফল লাভে ব্যর্থ হচ্ছে।
সংঘাতে ট্রাম্পের নীতি
বিবিসি জানায়, জেরেমি বোয়েনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রায়শই তাঁর ব্যক্তিগত প্রজ্ঞা এবং ‘পেটের অনুভব’ (gut-instinct) দ্বারা পরিচালিত হয়ে থাকেন, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও সংঘাতের মতো জটিল বিষয়ে। এই পদ্ধতিগত সিদ্ধান্তের অর্থ হলো, অনেক সময় দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত বিশ্লেষণ অথবা বিশেষজ্ঞের পরামর্শের চেয়ে ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়াকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এই ধরণের নীতি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা এবং অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে, কারণ এটি প্রচলিত কূটনৈতিক কাঠামোর বাইরে কাজ করে।
অকার্যকরতার প্রেক্ষাপট
এক মাস ধরে চলা ইরান সংঘাতে ট্রাম্পের এই সহজাত প্রবৃত্তি-নির্ভর নীতির অকার্যকরতার বিষয়টি এখন স্পষ্ট হচ্ছে বলে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। অকার্যকরতা বলতে এটি বোঝানো হয়েছে যে, প্রশাসনের গৃহীত পদক্ষেপগুলো সংঘাতের সমাধান, স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা অথবা নিজেদের লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছে। বরং, পরিস্থিতি আরও জটিল ও অচলাবস্থার দিকে এগোচ্ছে, যা উভয় পক্ষের জন্যেই নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। সংঘাত শুরুর এক মাসের মধ্যেই এমন একটি মূল্যায়ন নীতির কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে।
জেরেমি বোয়েন একজন অভিজ্ঞ আন্তর্জাতিক সম্পাদক হিসেবে বিশ্বের বিভিন্ন জটিল সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল সম্পর্কে গভীর ধারণা রাখেন। তাঁর এই বিশ্লেষণ বর্তমান ইরান সংকটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পদ্ধতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সমালোচনা তুলে ধরে। বিবিসি সূত্র মতে, তাঁর মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান নীতি এবং বৃহৎ পরিসরে তাঁর বৈদেশিক নীতি নিয়ে আরও আলোচনার জন্ম দিতে পারে, যেখানে ‘সহজাত প্রবৃত্তি’র চেয়ে সুচিন্তিত কৌশলগত পরিকল্পনা ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা উঠে আসছে।