আন্তর্জাতিক ডেস্ক (বিবিসি): ইরানের সংঘাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বজ্ঞা-নির্ভর বা স্বতঃস্ফূর্ত কৌশল কার্যকর প্রমাণিত হচ্ছে না বলে জানিয়েছে বিবিসি। সংঘাত শুরুর এক মাস অতিবাহিত হওয়ার পর এই পরিস্থিতি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে বিবিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই সংঘাত ঘিরে ট্রাম্প প্রশাসনের গৃহীত পদক্ষেপ এবং তার কার্যকারিতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
ট্রাম্পের কৌশলগত পদ্ধতি
বিবিসি জানায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রায়শই তার নিজস্ব স্বজ্ঞা বা ‘গাট-ইন্সটিংক্ট’ নির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য পরিচিত। এটি তার নেতৃত্বের একটি সুপরিচিত বৈশিষ্ট্য। ইরানের মতো একটি জটিল এবং সংবেদনশীল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই ধরনের স্বতঃস্ফূর্ত পদ্ধতি কতটা ফলপ্রসূ হতে পারে, তা নিয়ে বিশ্লেষকরা বরাবরই সন্দিহান। এই কৌশল সাধারণত সুচিন্তিত দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা, গভীর কূটনৈতিক বিশ্লেষণ এবং বিস্তারিত গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে নেওয়া হয় না, বরং ব্যক্তিগত অনুভূতি এবং তাৎক্ষণিক অনুমানের ওপর নির্ভর করে পরিচালিত হয়ে থাকে। সংঘাতের শুরুতে এই ধরনের কৌশল দ্রুত পদক্ষেপের সুযোগ দিলেও, দীর্ঘমেয়াদে এর কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন ওঠে।
এক মাসের সংঘাতে অকার্যকর প্রমাণ
এক মাস ধরে ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে ট্রাম্পের এই স্বজ্ঞা-নির্ভর রণনীতি প্রত্যাশিত ফল আনতে ব্যর্থ হচ্ছে বলে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ‘যুদ্ধভিত্তিক স্বজ্ঞা কাজ করছে না’ – এই পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে বোঝা যায় যে, ট্রাম্প প্রশাসন হয়তো তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে বা ইরানের সঙ্গে চলমান অস্থির পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সফল হচ্ছে না। এই কৌশল অবলম্বনের ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতি বরং আরও জটিল হয়ে উঠছে কিনা, সেই প্রশ্নও উঠেছে। সংঘাতে কোন নির্দিষ্ট পক্ষের অনুকূলে ফল না আসায় এই কৌশলটি অকার্যকর প্রমাণিত হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা
বিবিসির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ইরানের সংঘাতে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত স্বজ্ঞা বা অনুমাননির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি এখন পর্যন্ত ফলপ্রসূ প্রমাণিত হয়নি। এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক মহলে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির নির্ভরযোগ্যতা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে। সংঘাতের এক মাস পর এই কৌশলটির কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে এবং এর ফলে উদ্ভূত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি ভিন্ন এবং আরও সুচিন্তিত পদ্ধতির প্রয়োজন হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।