নরওয়ের যুবরাণী মেটে-মারিট জেফরি এপস্টেইনের সাক্ষাৎ নিয়ে মুখ খুললেন: ‘প্রতারিত ও প্রভাবিত’ হওয়ার দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক (বিবিসি): নরওয়ের যুবরাণী মেটে-মারিট সম্প্রতি প্রয়াত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সাথে তার অতীত সাক্ষাৎ নিয়ে দীর্ঘ নীরবতা ভেঙেছেন। নরওয়ের একটি টেলিভিশন চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে যুবরাণী স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, তিনি চান না যে তার সাথে এপস্টেইনের কখনও সাক্ষাৎ হোক। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুবরাণী মেটে-মারিট দাবি করেছেন যে তিনি এপস্টেইনের দ্বারা ‘প্রতারিত ও প্রভাবিত’ হয়েছিলেন।

ঘটনার প্রেক্ষাপট

প্রয়াত জেফরি এপস্টেইন ছিলেন একজন কুখ্যাত মার্কিন অর্থদাতা এবং সাজাপ্রাপ্ত যৌন অপরাধী, যার বিরুদ্ধে নাবালিকাদের যৌন নির্যাতন ও পাচারের অভিযোগ ছিল। ২০১৯ সালে তার মৃত্যুর পর তার অপকর্মের বিস্তারিত তথ্য সামনে আসে, যা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। তার সাথে সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সম্পর্কের কারণে অনেকেই সমালোচিত হয়েছিলেন। এই প্রেক্ষাপটেই নরওয়ের রাজপরিবারের একজন সদস্য হিসেবে যুবরাণী মেটে-মারিটের এমন একটি স্বীকারোক্তি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিবিসি জানায়, যুবরাণীর এই বক্তব্য তার ব্যক্তিগত অনুশোচনা এবং ঘটনার গুরুত্ব তুলে ধরে।

মুখ খুলেছেন যুবরাণী

নরওয়ের টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে যুবরাণী মেটে-মারিট আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, তিনি এপস্টেইনের সাথে তার সাক্ষাতের জন্য গভীর অনুশোচনা প্রকাশ করছেন। তিনি তার জীবনের সেই মুহূর্তগুলোকে মুছে ফেলতে চান এবং আক্ষেপ করে বলেছেন যে তার কখনও এপস্টেইনের সাথে দেখা না হলেই ভালো হতো। এই ধরনের প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি রাজপরিবারের সদস্যদের ক্ষেত্রে বিরল, যা তার মানসিক অবস্থা এবং বিষয়টি নিয়ে তার গভীর অস্বস্তি নির্দেশ করে। বিবিসিতে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, এই প্রথম তিনি এই বিতর্কিত সম্পর্ক নিয়ে জনসমক্ষে কথা বললেন।

বিতর্কিত সম্পর্ক নিয়ে প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি

যুবরাণী মেটে-মারিট তার বিবৃতিতে আরও দাবি করেছেন যে, এপস্টেইনের সাথে তার সম্পর্ক চলাকালীন তিনি নিজেকে ‘প্রভাবিত ও প্রতারিত’ হিসেবে অনুভব করেছিলেন। যদিও তার এই দাবি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সরাসরি প্রকাশ করা হয়নি, তবে এই মন্তব্যটি এপস্টেইনের শিকারদের দীর্ঘ তালিকার একটি অংশ হিসেবে তার অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়। বিবিসি সূত্র মতে, যুবরাণীর এই সাহসী পদক্ষেপ এপস্টেইনের শিকার অন্যান্য ব্যক্তিদেরও তাদের অভিজ্ঞতা প্রকাশে উৎসাহিত করতে পারে এবং সমাজে এমন জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়াতে সাহায্য করবে।

যুবরাণীর এই স্পষ্ট বক্তব্য নরওয়ের রাজপরিবারের প্রতি জনগণের আস্থা এবং সততার একটি নতুন বার্তা দিয়েছে। এই ঘটনার পর রাজপরিবারের পক্ষ থেকে বা নরওয়ের সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না এলেও, যুবরাণীর ব্যক্তিগত স্বীকারোক্তি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার লাভ করেছে এবং এপস্টেইনের অন্ধকার জগতের একটি নতুন দিক উন্মোচন করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *