আন্তর্জাতিক ডেস্ক (বিবিসি):
চীনে সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নির্দেশ জারি করা হয়েছে, যেখানে তথাকথিত ‘বোন অ্যাশ অ্যাপার্টমেন্ট’ বা অস্থিভস্ম সংরক্ষণকারী অ্যাপার্টমেন্টে দাহকৃত দেহাবশেষ রাখার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। বিবিসি জানায়, শোকাহত পরিবারগুলো ঐতিহ্যবাহী সমাধিস্থলের পরিবর্তে ফ্ল্যাট বা অ্যাপার্টমেন্টে তাদের প্রিয়জনদের দাহকৃত দেহাবশেষ সংরক্ষণ করছিল। এই সিদ্ধান্তের ফলে শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার পর দেহাবশেষ ব্যবস্থাপনার প্রচলিত ধারায় একটি বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
অনেক চীনা পরিবার শহুরে এলাকায় জায়গা স্বল্পতা এবং সমাধিস্থলের উচ্চ মূল্যের কারণে ‘বোন অ্যাশ অ্যাপার্টমেন্ট’-এর ধারণা গ্রহণ করেছিল। এই অ্যাপার্টমেন্টগুলি মূলত সাধারণ আবাসিক ফ্ল্যাটের মতোই দেখায়, কিন্তু এগুলিতে মৃত ব্যক্তির অস্থিভস্ম সংরক্ষিত থাকে, যা সমাধিস্থলের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। বিবিসি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ধরনের অপ্রথাগত উপায়ে দেহাবশেষ সংরক্ষণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলছিল, কারণ এটি আবাসিক এলাকার পরিবেশ এবং সামাজিক রীতির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে বলে অনেকে মনে করতেন।
নিষেধাজ্ঞার কারণ ও প্রভাব
সরকারের এই নিষেধাজ্ঞার মূল উদ্দেশ্য হল দাহকৃত দেহাবশেষের যথাযথ সৎকার নিশ্চিত করা এবং শহুরে এলাকায় আবাসিক ফ্ল্যাটের বাণিজ্যিক বা অপ্রথাগত ব্যবহার রোধ করা। ঐতিহ্যবাহী সমাধিস্থলের প্রতি সম্মান জানানো এবং সরকারিভাবে নির্ধারিত সৎকার পদ্ধতি অনুসরণ করার উপর জোর দিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিবিসি সূত্র মতে, কর্তৃপক্ষ এই ধরনের ‘বোন অ্যাশ অ্যাপার্টমেন্ট’-এর বিস্তার রোধ করে সামাজিক শৃঙ্খলা এবং ভূমি ব্যবহারের সঠিক ব্যবস্থাপনা বজায় রাখতে চাইছে। এটি মৃতদেহ সৎকারের ক্ষেত্রে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণের বার্তা দেয়।
এই নিষেধাজ্ঞা শোকাহত পরিবারগুলির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে, যারা এতদিন বিকল্প হিসেবে এই অ্যাপার্টমেন্টগুলি ব্যবহার করে আসছিলেন। এখন তাদের দাহকৃত দেহাবশেষ সংরক্ষণের জন্য সরকারি নির্দেশিত সমাধিস্থল বা অন্য কোনো অনুমোদিত পথ বেছে নিতে হবে। চীনা সরকার আশা করছে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে শেষকৃত্য ও সৎকার পদ্ধতির ক্ষেত্রে আরও সুসংগঠিত এবং সম্মানজনক পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব হবে।