আন্তর্জাতিক ডেস্ক (বিবিসি): বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম আর্থিক সংস্থা ব্ল্যাকরকের (BlackRock) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ল্যারি ফিঙ্ক সম্প্রতি সতর্ক করে বলেছেন যে, যদি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলারে পৌঁছে এবং দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে তা বিশ্ব অর্থনীতিতে গভীর মন্দা সৃষ্টি করবে। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিঙ্কের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এমনিতেই অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং বিভিন্ন ভূ-রাজনৈতিক কারণে তেলের দাম ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও বিশ্ব অর্থনীতির ঝুঁকি
ল্যারি ফিঙ্কের মতে, অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধি যদি একটি নির্দিষ্ট উচ্চ স্তরে (১৫০ ডলার প্রতি ব্যারেল) দীর্ঘ সময় ধরে বজায় থাকে, তাহলে এর গুরুতর পরিণতি হবে। ব্ল্যাকরকের প্রধানের এই বিশ্লেষণ বিশ্বজুড়ে নীতিনির্ধারক ও অর্থনীতিবিদদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিবিসি জানায়, উচ্চ তেলের দাম সাধারণত উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দেয়, যা মুদ্রাস্ফীতিকে ত্বরান্বিত করে এবং ভোক্তাদের ক্রয় ক্ষমতা হ্রাস করে। এটি বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থাতেও চাপ সৃষ্টি করে, যা অর্থনৈতিক মন্দার অন্যতম প্রধান কারণ হতে পারে।
স্থায়ী প্রভাবের আশঙ্কা
ফিঙ্ক বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন যে, তেলের দামের ক্ষণস্থায়ী বৃদ্ধি ততটা বিপজ্জনক নয় যতটা দীর্ঘস্থায়ী উচ্চ মূল্য। যদি এই উচ্চ মূল্যস্তর দীর্ঘকাল ধরে টিকে থাকে, তাহলে এর ‘সুদূরপ্রসারী প্রভাব’ পড়বে বিশ্ব অর্থনীতির ওপর। এর অর্থ হলো, শুধুমাত্র স্বল্পমেয়াদী বাজারের অস্থিরতা নয়, বরং কাঠামোগত এবং দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ দেখা দেবে, যা বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধিকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করতে পারে। তার এই সতর্কবাণী ইঙ্গিত দেয় যে, জ্বালানি সংকটকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়।
ব্ল্যাকরকের মতো একটি প্রভাবশালী আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধানের কাছ থেকে এমন সরাসরি এবং কঠোর সতর্কবাণী বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে এক ধরনের উদ্বেগ ছড়িয়েছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, ল্যারি ফিঙ্কের এই মন্তব্য বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ঝুঁকির একটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছে এবং এটি সরকারের নীতি নির্ধারকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বৈশ্বিক অর্থনীতিকে মন্দার হাত থেকে রক্ষা করতে হলে জ্বালানি নীতি এবং বিকল্প শক্তির উৎস নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।