আন্তর্জাতিক ডেস্ক (বিবিসি):
নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্সেস মেটে-মারিট অবশেষে নীরবতা ভেঙে জানিয়েছেন যে তিনি প্রয়াত কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের দ্বারা ‘প্রতারিত ও প্রভাবিত’ হয়েছিলেন। নরওয়ের টেলিভিশনে এক সাক্ষাৎকারে তিনি তার গভীর অনুশোচনা প্রকাশ করে বলেছেন, তার একান্ত ইচ্ছা যে তিনি কখনোই এপস্টেইনের সাথে দেখা না করতেন। এই চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি এপস্টেইনের সাথে তার পূর্ববর্তী যোগাযোগের বিতর্ককে নতুন করে উসকে দিয়েছে এবং রাজপরিবারের জন্য এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে বলে বিবিসি জানায়।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রয়াত জেফরি এপস্টেইন ছিলেন একজন কুখ্যাত মার্কিন অর্থলগ্নিকারী, যিনি অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের যৌন নিপীড়ন ও পাচারের গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত ছিলেন এবং কারাগারে থাকা অবস্থায় তার বিতর্কিত মৃত্যু হয়। এপস্টেইনের সাথে বিশ্বের বহু প্রভাবশালী ও উচ্চপদস্থ ব্যক্তির যোগাযোগ ছিল, যা পরবর্তীতে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়। প্রিন্সেস মেটে-মারিটের সাথে এপস্টেইনের যোগাযোগের বিষয়টি অতীতে গণমাধ্যমে আলোচনায় এসেছিল, কিন্তু এই প্রথম তিনি জনসমক্ষে এই বিষয়ে তার অনুভূতি ও অবস্থান প্রকাশ করলেন। তার এই নীরবতা ভাঙা রাজপরিবারের ভাবমূর্তি রক্ষার একটি সুস্পষ্ট প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
ক্রাউন প্রিন্সেসের অনুশোচনা ও অভিযোগ
সাক্ষাৎকারে ক্রাউন প্রিন্সেস মেটে-মারিট গভীর অনুশোচনা প্রকাশ করে বলেছেন যে, এপস্টেইনের সাথে তার সাক্ষাত তাকে মানসিকভাবে পীড়িত করে। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, এপস্টেইনের প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে তিনি সেসময় অবগত ছিলেন না। ক্রাউন প্রিন্সেস নিজেকে তার দ্বারা ‘প্রতারিত ও প্রভাবিত’ অনুভব করেন। তার কথায়, “আমি যদি জানতাম তিনি কেমন ব্যক্তি ছিলেন, তাহলে আমি কখনোই তার সাথে দেখা করতাম না।” এই মন্তব্য তার মানসিক যন্ত্রণার গভীরতা প্রকাশ করে এবং অতীতের ভুল বোঝাবুঝি দূর করার একটি আন্তরিক প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া
ক্রাউন প্রিন্সেসের এই চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি নরওয়ের জনমনে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। বিবিসি সূত্র মতে, এপস্টেইনের কেলেঙ্কারির সাথে জড়িত প্রতিটি বিষয়ই জনগুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে এবং এই ধরনের একটি উচ্চপদস্থ রাজপরিবারের সদস্যের সরাসরি বিবৃতি জনসম্মুখে তার সম্মান ও বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি রাজপরিবারের উপর চাপ কমাতেও সাহায্য করতে পারে, যারা এপস্টেইনের সাথে রাজপরিবারের সদস্যদের পূর্ববর্তী যোগসূত্র নিয়ে প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছিলেন। এই বিবৃতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সংবাদ শিরোনাম হয়েছে, যেখানে এপস্টেইন-সম্পর্কিত সকল বিষয় এখনো বিশ্বব্যাপী আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।